বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এবারের আসরটিই সবচেয়ে বড় ইভেন্ট হতে যাচ্ছে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার সেই কথা সত্যিই প্রমাণিত হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি দল ও বেশি ম্যাচ দেখা গেছে।
ফলে গোল এবং আয়োজক শহরের সংখ্যাও ছিল রেকর্ডসংখ্যক। আর লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম, আর্লিং হাল্যান্ডদের মতো ফুটবল বিশ্বের শীর্ষ তারকারা মাঠের লড়াইয়ে উপহার দিয়েছেন নজিরবিহীন এক মহোৎসব।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবার রেকর্ড ৬৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি) প্রাইজ ফান্ড ঘোষণা করেছে, যা গত কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ এবারের আসরের প্রাইজমানির এই আকর্ষণীয় খতিয়ান প্রকাশ করেছে।
এবারের আসরে অংশ নেওয়া ৪৮টি দলের প্রতিটিই কোটি কোটি টাকা ঘরে তুলছে। মেগা ফাইনালে বিজয়ী দল তথা নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা পাবে রেকর্ড ৫ কোটি ডলার।
একনজরে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রাইজমানি:
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন: ৫ কোটি ডলার (৬১৬ কোটি+ টাকা)
রানার্স-আপ: ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার (৪০৬ কোটি টাকা)
তৃতীয় স্থান: ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার (৩৫৭ কোটি টাকা)
চতুর্থ স্থান: ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার (৩৩৩ কোটি টাকা)
কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট (৪ দল): ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার করে
রাউন্ড অব ১৬ (৮ দল): ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে
রাউন্ড অব ৩২ (১৬ দল): ১ কোটি ১০ লাখ ডলার করে
গ্রুপ পর্ব (১৬ দল): ৯০ লাখ ডলার (পাশাপাশি প্রতিটি দল প্রস্তুতি খরচ বাবদ পাবে আরও ১৫ লাখ ডলার)
ঐতিহাসিক তুলনা: ১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে যখন ফিফা প্রথম প্রাইজমানির হিসাব চালু করে, তখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি পেয়েছিল মাত্র ২২ লাখ ডলার। ৪৪ বছর পর এসে সেই অংক বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ গুণেরও বেশি। এছাড়া গত আসরের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার (৪ কোটি ২০ লাখ ডলার) চেয়ে এবার ৮০ লাখ ডলার বেশি পাচ্ছে বিজয়ীরা।
ফাইনালে বিজয়ী দলের ২৬ জন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের প্রত্যেকের গলায় উঠবে ঐতিহাসিক সোনার মেডেল (গোল্ড মেডেল)। একইভাবে রানার্স-আপ দল পাবে রুপার মেডেল এবং শনিবারের তৃতীয় স্থান জয়ী দল পাবে ব্রোঞ্জের মেডেল।
মেডেল দেওয়ার এই নিয়মে অবশ্য অতীতে কড়াকড়ি ছিল। ১৯৭৮ সালের আগে কেবল ফাইনালে খেলা মূল ১১ জন খেলোয়াড়কেই মেডেল দেওয়া হতো। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে ফিফা এক ঐতিহাসিক ঘোষণায় ১৯৭৪ বা তার আগের বিশ্বকাপজয়ী দলগুলোর স্কোয়াডে থাকা সত্ত্বেও ফাইনালে না খেলা খেলোয়াড়দের জন্য ১২২টি মেডেল ভূতাপেক্ষভাবে প্রদানের ব্যবস্থা করে। এ ছাড়া টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফর্ম করা ম্যাচ অফিসিয়ালরাও (রেফারি ও সহকারী রেফারি) ফাইনাল শেষে মেডেল পেয়ে থাকেন।
দলগত ট্রফি ও মেডেলের পাশাপাশি ফাইনাল শেষে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পুরস্কারও দেওয়া হবে। ফিফা স্বীকৃত সাংবাদিকদের ভোটে নির্বাচিত সেরা খেলোয়াড় পাবেন ‘গোল্ডেন বল’ এবং সেরা গোলরক্ষক পাবেন ‘গোল্ডেন গ্লাভস’। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’-এর লড়াইটি এবার আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা রোমাঞ্চে রূপ নিয়েছে। মেসি, এমবাপে, বেলিংহাম কিংবা হ্যারি কেইন—সবাই আছেন গোলবন্যার দুর্দান্ত ফর্মে। তবে ব্যক্তিগত এই ট্রফিগুলোর সঙ্গে কোনো বাড়তি অর্থ বা প্রাইজমানি থাকে না।












